Member

  • Sahin Alam posted an update 1 year, 6 months ago  · 

    ১ নং শৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর:
    বাংলাদেশ একটি প্রত্যন্ত গ্রামের জনসাধারণের কাছে তথ্য ও যোগাযোগ সেবা পৌছেঁ দিতে একটি মোবাইল কোম্পানি উক্ত গ্রামে একটি তথ্য সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। উক্ত তথ্য সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে ছাত্র, শিক্ষক, কৃষকসহ সকল জনসাধারণ কৃষি, শিক্ষাসহ বিভিন্ন তথ্য খুব সহজেই জানতে এবং তা কাজে লাগাতে পারছে। এর ফলে সকলেই উপকৃত হয় যা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
    প্রশ্ন:
    ক. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কী?
    খ. শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সহজতর করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার লিখ।
    গ. কৃষিক্ষেত্রে শস্য নির্বাচন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে একজন কৃষক কীভাবে উপকৃত হতে পারেন?
    ঘ. জাতীয় উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রভাব আলোচনা কর।
    উত্তর:
    ক. যে কোন প্রকারের তথ্যের উৎপত্তি, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, সঞ্চালন এবং বিচ্ছুরণে ব্যবহৃত সকল ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি কে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বলে।
    খ. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করেছে। নতুন পাঠদান পদ্ধতি পূর্বের পদ্ধতি থেকে অনেক শক্তিশালী ও কার্যকর। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে শিক্ষকরা কোনো কিছু পড়ানোর সময় উদাহরণ, চিত্র, তথ্য প্রবৃতি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংগ্রহ করে উপস্থপন করতে পারে। কম্পিউটার স্লাইডে একাধিক নিখুঁত বোধগম্য ছবি যা হাতে আঁকা কঠিন ও সময় সাপেক্ষ ছিল তা প্রযু্ক্তি ব্যবহাবে সহজে ও সময় সাশ্রয়ীভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের না বুঝা লেকচারগুলো অনলাইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে সহজেই তা পাঠ করা যায়। শিক্ষক ছবি, অডিও ভিডিও, অ্যানিমেশন ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার বিষয়বস্তুকে ছাত্রদের নিকট অধিক আকর্ষণীয়, সহজবোধ্য ও জ্ঞান নির্ভর করে উপস্থাপন করতে পারেন।
    গ. কৃষিক্ষেত্রে শস্য নির্বচন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে একজন কৃষক বিভিন্নভএব উপকৃত হতে পারেন। শস্য নির্বচনে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বাজারজাতকরণে ই-কমার্স ও ই-মার্কেটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব।
    i. শস্য নির্বাচনে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং: এই পৃযুক্তির মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে নতুন বীজের উদ্ভব করা সম্ভব হয়েছে নতুন জিন আবিস্কারের ফলে। এই বীজগুলো উচ্চ ফলনশীল এবং রোগজীবাণু থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম। ফলে এসব শস্য ফলাতে গেলে কম সার লাগে এবং কম কীটনাশক লাগে যা আমাদের পরিবেশ নিরাপদ করে।
    ii. শস্য বাজারজাতকরণে ই-কমার্স ও ই-মার্কেটিং: কৃষক তার উৎপাদিত শস্য সন্তোষজনক লাভে বাজারজাত করার জন্য অনলাইনের মাধ্যমে বাজারে শস্যের চাহিদা ও দর দাম সম্বন্ধে অবগত হতে পারে। উপযুক্ত দামে চাহিদা মোতাবেক সময়মতো শস্য বাজারে পাইকারদের সরবরাহ করার জন্য ই-কমার্স ও ই-মার্কেটিং প্রযুক্তির আশ্রয় নিতে পারে। কৃষক তার বাজারজাত করা পণ্যের মূল্য ঢাকার পাইকারদের কাছ থেকে জেনে নিয়ে অনলাইন ব্যবস্থায় তার নিজ গ্রামের মার্কেটে প্রয়োগ করতে পারে। যার ফলে কৃষকের ঝুকিঁর সম্ভাবনা থাকে না। এভাবেই কৃষক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে শস্য নির্বাচন ও বাজারজাত করে উপকৃত হতে পারেন।
    ঘ. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির আবির্ভাবের ফলে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে খুবই অল্প খরচে এবং কাজ করা সম্ভব হচ্ছে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। যার প্রভাব পড়ছে জাতীয় উন্নয়ন কর্মকান্ডে। যার ফলে পণ্যের উৎপাদন খরচ কমছে যা জাতীয় উন্নয়নে সন্দেহাতীতভাবে অনুকূল ভূমিকা রাখছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি যেভাবে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে তা আলোচনা করা হলো-
    i. E-Governance: এই ব্যবস্থার ফলে প্রশাসনে গতি আসছে, ফাইলে দুর্নীতি সহজেই ধরা পড়ছে এবং প্রশাসনের সাথে দূরত্ব কমছে।
    ii. E-Commerce: এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রকম কার্ড যেমন ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ড প্রচলনের ফলে নগদ টাকা-পয়সা নিয়ে চলাফেরা করার প্রয়োজন থাকে না।
    iii. স্বয়ংক্রিয় ব্যাংকিং কার্যক্রম: এ ব্যবস্থায় সমগ্র লেনদেন ও তথ্য একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারে রাখা হয় এবং সহজে লেনদেন করা সম্ভব হয়।
    iv. মোবাইল ব্যাংকিং: এ ব্যবস্থায় গ্রামের কৃষক ব্যাংকের এজেন্টের মধ্যমে মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে হিসাব খুলে ব্যাংকে টাকা জমা রেখে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
    v. রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে: তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে আয় গোপন প্রতিরোধ করার মাধ্যমে ট্যাক্স ও ভ্যাট না দেওয়ার ফাকিঁ বন্ধ করে অর্থনৈতিক অসমত দূর করা সম্ভব হবে।
    vi. বেকার সমস্যা সমাধানে: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনের ফলে এর রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী নিয়োগ, সফটওয়্যার উন্নয়ন প্রচুর প্রোগ্রাম সৃষ্টির মাধ্যমে ইন্টারনেটে বিদেশের কাজ করার জন্য স্বল্পমূল্যের যুবকর্মী নিয়োগ দিয়ে বেকার সমস্যা সমাধানে অবদান রাখা যায়।
    এভাবেই জাতীয় উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।