Blog

বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান): পাঠ-০৪

3513126_113
এইচ.এস.সি.

বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান): পাঠ-০৪

০৪। নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

বিশ্বের সব দেশেই এখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জয়জয়কার। এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির হওয়ার এখন বাংলাদেশে শুধু আনাচে-কানাচে নয় সর্বত্রই বিরাজমান। সাম্প্রাতিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিই আমাদের শিক্ষা, ব্যবসা, চিকিৎসা,বিনোদনে, আমূল পরিবর্তন সাধন করেছে। বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যমে হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ক. বিশ্বগ্রাম বলতে কী বোঝায়?

খ. চিকিৎসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার লেখ।

গ. কীভাবে শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তি আমূল পরিবর্তন সাধন করেছে বলে তুমি মনে করো?

ঘ. “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম”- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:

ক. বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজ হলো এমন একটি সামাজিক বা সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষই একটি একক সমাজে বসবাস করে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারেরর মাধ্যমে তারা তাদের চিন্তা চেতনা, অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি-কৃষ্টি ইত্যাদি শেয়ার করতে পারে ও একে অপরকে সেবা প্রদান করতে পারে।

খ. চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের থেরাপি দেয়া হয়। তাছাড়া অপারেশনের সময় রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন ধরণের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হচ্ছে। আধুনিক চিকিৎসায় রোগ নির্ণয়েও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়।

গ. মাল্টিমিডিয়ার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয়ে চিত্র ব্যবহার করে ছাত্র-ছাত্রীদের সহজে উপস্থাপন করা যায়। ইন্টারঅ্যাক্টিভ শিক্ষামূলক সফটওয়্যার ব্যবহার করে খুব সহজেই শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দান করার যায়। শিক্ষামূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অসংখ্য সিডি করা হচ্ছে। এতে শিক্সার বিষয়গুলোকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়। ই-লার্নিং-এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা বা জ্ঞান অর্জন করতে পারছে। এমনকি এক দেশর কোন প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য দেশের কোন শিক্ষার্থী অনলাইনে পরীক্ষা দিয়ে ডিগ্রি অর্জন করা যায়। বর্তমান বিশ্বে অনলাইন বা ইন্টারনেটভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ঘরে বসেই বিভ্নি বিষয়ে ইন্টারনেটে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সাথে আলোচনা করতে পারে। বিভিন্ন দেশের বা স্থানের ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান করে কোনো বিষয়ে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে। আর অনলাইন পরীক্ষায় সারা বিশ্বে একই সাথে একই প্রশ্নে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহন করে থাকে। ই-লাইব্রেরি ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো বই থেকে শিক্ষার্থীরার ঘরে বসেই পড়াশোনা করতে পারছে।

ঘ. সামাজিক যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সাই যথা- ফেসবুক, মাইস্পেস, ইউটিউব, অরকুট ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারে। এসব সাইটের মাধ্যমে বন্ধুত্ব তৈরির পাশাপাশি ছবি, ভিডিও ইত্যাদি আপলোড-ডাউনলোড করে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করা যায়। আজকাল ইন্টারনেটে টিভি ও রেডিও চালু হওয়ায় স্ট্রিমিং অডিও-ভিডিও প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর-দূরান্তে বসেও টিভি ছাড়াই কম্পিউটারে টিভি দেখা যায়। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ইত্যাদি ব্যবহার করে চ্যাটিং করে সরাসরি নিজের আবেগ, অনুভূতি শেয়ার করা যায়। অনেক সময় ইন্টারনেট থেকে নিজের পছন্দমতো সিনেমা ডাউনলোড করে দেখা যায়। স্কাইপির মাধ্যমে সহজেই কম্পিউটারে বসে দূর-দূরান্তে অবস্থিত ঘনিষ্ঠ স্বজনদের সাথে ভিডিওসহ যোগাযোগ করতে পারছে।

Leave your thought here