Blog

কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান) : পাঠ – ০৪

Cloud Computing
এইচ.এস.সি.

কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান) : পাঠ – ০৪

প্রশ্নঃ  নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

মি. রাশেদ একটি ব্যাংকে Chief Technical Officer হিসাবে কর্মরত আছেন। বর্তমানে তার ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সার্ভার এবং নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি ব্যাংকের Head Office এর ভাড়ার পরিমান বেশি হওয়ায় ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ তাকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আদেশ দিয়েছেন। মি. রাশেদ এক্ষেত্রে ক্লাউড কম্পিউটিং সুবিধা গ্রহনের চিন্তা করবেন।

ক. ক্লাউড বলতে কী বুঝায়?

খ. কোন নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি সবচাইতে নির্ভরযোগ্য ডেটা আদান-প্রদান করতে পারবে এবং কেন?

গ. ব্যাংকের যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে তার বিহীন যােগাযোগের যথার্থতা আলোচনা কর।

ঘ. পাবলিক ও প্রাইভেট ক্লাউড দিয়ে এই সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন ধাপগুলো উল্লেখ করে তুলনামুলক সুবিধা ও অসুবিধা বর্ণনা কর।

উত্তরঃ-

ক) কম্পিউটার ও ডেটা স্টোরেজ সহজে, ক্রেতার সুবধামতো চাহিবামাত্র এবং ব্যবহার অনুযায়ী ভাড়া দেয়ার সিস্টেমই হলো ক্লাউড কম্পিউটিং।

খ) ট্রি টপোলজি নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি সবচাইতে নির্ভরযোগ্য ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। এর কারণ হলো এ নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে নেটওয়ার্ক এর মধ্যস্থিত কম্পিউটারগুলোর মধ্যে যোগাযোগ করা যায়। বুলেটিন বোর্ড স্থাপন করে টেলিযোগাযোগ করা যায়। ই-কমার্স (ই-মেইল, ইন্টারনেট ব্যবহার করে) করা হয়।

গ) নিদিষ্ট কোনো এলাকায় অবস্থিত কম্পিউটারসমূহকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার জন্য টেলিফোন লাইন বা High Speed Remote এর সাহায্যে MAN পদ্ধতিতে কম্পিউটারসমূহ নেটওয়ার্ক ভূক্ত করা হয়।

ব্যাংকের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থায় Metropolitan Area Network (MAN) পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। তারা একটি শহরে নিয়ে মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক ডিজাইন করে থাকে। এ ধরনে নেটওয়ার্ক যেমন- একটিমাত্র নেটওয়ার্ক হতে পারে, যেমন বর্তমানে ক্যাবল টিভির যে নেটওয়ার্ক প্রতিটি শহরে লক্ষ করা যায় সেটাই সিঙ্গেল নেটওয়ার্ক । আবার সিঙ্গেল নেটওয়ার্ক না হয়ে অনেকগুলো ল্যান বা স্থানিক এরিয়া নেটওয়ার্কের সংযোগও হতে পারে। যে কারণে ল্যান থেকে বা ডিভাইস থেকে ডিভাইসে রিসোর্স শেয়ার করতে পারে। এসব কারণে বলা যায় ব্যাংকের যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে তারবিহীন যোগাযোগ যথাযথ বাস্তবসম্মত।

ঘ) যে ক্লাউড সিস্টেমের সুবিধা ইন্টারনেটর মাধ্যমে নেয়া যায় তাকে পাবলিক ক্লাউড বলা হয়। এসব ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ডেটা আদান-প্রদানে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত সার্ভার ভাড়া নিয়ে যে কেউ পাবলিক ক্লাউডের সার্ভিস নিতে পারে। Amazon, Yahoo ইত্যাদি পাবলিক ক্লাউডের উদাহরন। এক্ষেত্রে অনেকে একটি ক্লউড শেয়ার করে থাকে।

প্রাইভেট ক্লাউড: কোনো একটি কোম্পানি তাদের নিজেদের ব্যবহারের জন্য যদি একটি ক্লাউড ব্যবহার করে থাক তবে তাকে প্রাইভেট ক্লাইড বলা হবে। এক্ষেত্রে অন্যকে একটি কোম্পানি ক্লাউড রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে থাকে এবং ইন্টারনেট ব্যতীত অন্যান্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডেটা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাধারণত ব্যাংকগুলো তাদের ডেটা রাখার জন্য প্রাইভেট ক্লাউড স্থাপন করে থাকে।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সুবিধা:

  • কম খরচ: যেহেতু এতে আলাদা কোনো সফটওয়্যার কেনার প্রয়োজন হয় না বা কোনো হার্ডওয়্যার এর প্রয়োজন হয় না। তা স্বাভাবিকভাবে খরচ কম হবেই।
  • সহজে ব্যবহার : ক্লাউড কম্পিউটিং ক্লাউড কম্পিউটিং এর কাজ গুলো যেকোনো স্থানে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে কন্ট্রাল করা যায় তাই এটা সহজে ব্যবহারযোগ্য।
  • অটো সফটওয়্যার আপডেট: ক্লাউড কম্পিউটিং এর সফটওয়্যারগুলো আপডেট করা প্রয়োজন নেই। এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হয়ে থাকে। তাই আলাদাভাবে এটা রক্ষণাবেক্ষণের খরচ লাগে না।
  • যতটুকু ব্যবহার ততটুকু খরচ: ক্লাউড কম্পিউটিং এ যতটুকু ব্যবহার করা হবে শুধু ততটুকুর জন্য খরচ লাগে না।
  • ডকুমেন্ট কন্ট্রােল : কোনো অফিসে যদি ক্লাউড কম্পিউটিং না ব্যবহার কর তবে সেই অফিসের ডকুমেন্টসমূহ কন্ট্রোল করা যায় করতে  বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেবার জন্য আলাদা লোকের প্রয়োজন হবে কিন্তু ক্লাউড কম্পিউটিং এ সেই ধরনের কোনো সমস্যা নেই। অতিরিক্ত  লোক ছাড়াই সকল ডকুমেন্ট কন্ট্রোল করা যায়।
  • সম্পুর্ণ নিরাপদ: ক্লাউড  কম্পিউটিং সম্পূর্ণ নিরাপদ কারণ এতে তথ্য হারানোর বা নষ্ট হবার কোনো সম্ভবনা থাকে না। ল্যাপটপ বা কম্পিউটার হারিয়ে যাওয়া বা হার্ডডিক্স নষ্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা থেকে ক্লাউড কম্পিউটিং সম্পূর্ণ মুক্ত।

Leave your thought here