কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি

কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি

প্রশ্ন- ১ঃ ডেটা কমিউনিকেশন কী?
উত্তরঃ একটি কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে অথবা একটি ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইস যেমন- মোবাইল, স্মার্টফোন, পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিসটেন্ট জিপিএস নেভিগেটের ইত্যাদির মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান বা তথ্যের বিনিময়কে ডেটা কমেউনিকেশন বা ডেটার স্থানান্তর বলা হয়। ডেটা স্থানান্তর যেকোনো একটি পর্যায়ে কম্পিউটার সরাসরি যুক্ত থাকে। আধুনিক ডেটা কমিউনিকেশনের প্রধান উপাদান হলো কম্পিউটার এবং ডেটা ট্রান্সমিশন সিস্টেম। কম্পিউটারকে বলা হয় ডেটা প্রসেসিং ডিভাইস এবং প্রসেসকৃত ডেটা একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার প্রক্রিয়া হলো ট্রান্সমিশন সিস্টেম ।

 

প্রশ্ন- ২ঃ ব্যান্ড উইডথ কী? ডেটা কমিউনিকেশন স্পীডকে কত ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
উত্তরঃ-  একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো চ্যানেল দিয়ে যে পরিমাণ ডেটা স্থানান্তরিত হয় তার পরিমাণকে ব্যান্ড উইডথ হিসেবে পরিমাপ করা হয়।
ডেটা ট্রান্সফার গতির উপর ভিত্তি করে ডেটা কমিউনিকেশন স্পীডকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (১) ন্যারোব্যান্ড, (২) ভয়েস ব্যান্ড ও (৩) ব্রডব্যান্ড।

ন্যারোব্যান্ড   (Narrow band) : এ ডেটা ট্রান্সমিশন সাধারণত ৪৫ থেকে ৩০০ bit per second (bps) হয়ে থাকে। ধীর গতির ডেটা ট্রান্সমিশন যেমন- টেলিফোন ক্ষেত্রে এ ব্যান্ডটির ব্যবহারের আধিক্য দেখা যায়। টেলিফোনের ক্ষেত্রে এ ন্যারোব্যান্ড ৩০০-৪০০ হার্জ ফ্রিকুয়েন্সি প্রদান করে।

ভয়েজ ব্যান্ড (Voice band): এর গতি সাধারণত ৯৬০০bps পর্যন্ত হয়ে থাকে । টেলিফোন লাইনে ভয়েস ব্যান্ড সর্বাধিক ব্যবহৃত হয় যেখানে তথ্য স্থানান্তরের ফ্রিকুয়েন্সি ২০০-৩৬০০ হার্জ। কম্পিউটার থেকে প্রিন্টার অথবা কার্ড রিডার থেকে কম্পিউটারে ডেটা স্থানান্তরে ভয়েস ব্যান্ড ব্যবহৃত হয়।

ব্রডব্যান্ড  (Broad band): মূলত উচ্চ গতিসম্পন্ন ডেটা স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। এই গতি 1 mbps এর বেশি হয়ে থাকে বলে এরা অধিক তথ্য বহনের ক্ষমতা রাখে। ব্রডব্যাড ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার লাইন, রেডিওলিঙ্ক, অপটিক্যাল ফাইবার, মাইক্রোওয়েভ এবং স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন ব্যবহার হয়।

 

প্রশ্ন- ৩ঃ সিনক্রোনাস ও অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর ।
উত্তরঃ-  যে পদ্ধতিতে প্রথমে প্রেরক স্টেশনের প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইসে ডেটাকে সংরক্ষণ করা হয় এরপর ডেটার ক্যারেষ্টারসমূহ ব্লক বা প্যাকেট আকারে ভাগ করে প্রতিবার একটি করে ব্লক ট্রান্সমিশন করা হয় তাকে সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে। সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের বৈশিষ্টাবলি নিম্নরূপ-

সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের সুবিধাসমূহ (Application of Asynchronous Transmission):

  • স্টার্ট ও স্টপ বিট না থাকায় এবং অনবরত চলতে থাকায় এর গতি অনেক দ্রুত হয়।
  • প্রতিটি ক্যারেক্টারের শুরু ও শেষে স্টার্ট বিটের প্রয়োজন না হওয়ায় প্রতিটি ক্যারেক্টরের পর টাইম ইন্টারভেলেরও প্রয়োজন হয় না।
  • এর দক্ষতা অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের চেয়ে বেশি।
  • সময় তুলনামূলক কম লাগে।

সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের অসুবিধাসমূহ (Disadvantages of Synchronous Transmission):

  • প্রেরক স্টেশনে প্ররকের সাথে একটি প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইসের প্রয়োজন  হয়।
  • এটি তুলনামুলক ব্যয়বহুল।

সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের ব্যবহার (Application of Synchronous Transmission):

  • কম্পিউটার হতে কম্পিউটারের ডেটা কমিউমিশনে সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন ব্যবহৃত হয়।
  • এক স্থান থেকে দূরবর্তী কোনো স্থানে ডেটা স্থানান্তরে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
  • এক কম্পিউটার হতে একই সময়ে আনেকগুলো কম্পিউটারে ডেটা ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে এটি একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি।

অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন: যে পদ্ধতিতে প্রেরক কম্পিউটার হতে ডেটা গ্রাহক কম্পিউটারে ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হয় তাকে অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে। এতে প্রেরকের কোনো প্রাইমারি স্টেরেজ ডিভাইসের প্রয়োজন হয় না। অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের বৈশিষ্ট্যগুলো র্মূলত এর সুবিধা-অসুবিধা ও ব্যবহারের সমন্বয়ে গঠিত।

অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের সুবিধাসমূহ (Advantages of Asynchronous Transmission):

  • অল্প করে ডেটা পরিবহনের দরকার পড়ে এমন পরিবেশে যেমন, ইন্টারনেট এই পদ্ধতি বেশি উপযোগী।
  • এতে প্রেরক যেকোনো সময় ডেটা পাঠাতে এবং তা গ্রহন করতে পারে।
  • প্রেরক কোনো প্রাইমারি স্টেরেজ ডিভাইসের প্রয়োজন হয় না।
  • ইনস্টলেশন খরচ অত্যন্ত কম।

অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের অসুবিধা (Disadvantages of Asynchronous Transmission):

  • প্রতিটি বর্ণের সাথে একটি স্টার্ট বিট ও একটি স্টপ বিট প্ররণ করতে হয়।
  • এতে অতিরিক্ত বিট ব্যবহার হয় বলে এটি সিনক্রােনাস ট্রানমিশনের চেয়ে কম দক্ষ।
  • এতে ডেটা ট্রান্সমিশনের গতি কম।
  • ডেটা স্থানান্তরের কাজ বন্ধ সময় মাধ্যমেটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।

অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের ব্যবহার(Application Asynchronous Transmission):

  • কম্পিউটার হতে প্রিন্টারে ডেটা স্থানান্তরে এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
  • কিবোর্ড হতে কম্পিউটারে ডেটা স্থানান্তর এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
  • পাঞ্চকার্ড রিডার হতে কম্পিউটারে এবং কম্পিউটার হতে কার্ড পাঞ্চারে ডেটা স্থানান্তর এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন- ৪ঃ ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া বা মাধ্যম কী? বিভিন্ন প্রকার মিডিয়ার নাম লেখ।
উত্তরঃ একটি কম্পিউটারকে যখন অপর দিকে আরেকটি কম্পিউটার সাথে সংযোজিত করা হয় তখন ব্যবহৃত মাধ্যমকে ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া বলা হয়। বহুল ব্যবহৃত মিডিয়া বা মাধ্যমের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো-

  • ক্যাবল বা তার (Cable on wire)
  • রেডিও ওয়েভ ( Radio wave)
  • স্যাটেলাইট  (Satellite)
  • মাইক্রোওয়েভ (Microwave)
  • ইনফ্রোরেড (Infrared)

প্রশ্ন- ৫ঃ কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কী? কম্পিউটার নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা কী?
উত্তর:  কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হচ্ছে একদল আন্তঃসংযুক্ত (Inter connected) কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট ডিভাইস যারা খুব সহজে নিজেদের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং রিসোর্স শেয়ার করতে পারেন। কম্পিউটার নেটওয়ার্করে ফলে নেটওয়ার্কযুক্ত সকল কম্পিউটারের প্রক্রিয়াকরণ অংশ সম্বনিত হয়ে একটি প্রক্রিয়াকরণ অংশে পরিণত হয়। মূলত তথ্য বিনিময়, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার রিসোর্স শেয়ারিং করার জন্য নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়। কম্পিউটার নেটওয়্যার্ক এর প্রযোজনয়ীতাগুলো নিম্নরূপ-

  • কম্পিউটারের মাধ্যমে তথ্যের বিনিময়, বার্তা ও ম্যানেজ এর আদান-প্রদান সম্ভব।
  • হার্ডওয়্যার ও সফ্‌টওয়্যার রিসোর্স শেয়ারিং এর জন্য কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রয়োজন।
  • তথ্যের সুষ্ঠু সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ।
  • সংগৃহীত তথ্যের সুরক্ষায় কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন- ৬ঃ প্যান (PAN) বা পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক কী? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
উত্তরঃ পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা প্যান (Personal Area Network PAN) : পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা প্যান হলো এমন একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যেটি পার্সোনাল কম্পিউটার ডিভাইসসমূহের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। এসব ডিভাইসের মধ্যে অন্যতম হলো টেলিফোন, মােবাইল ফোন, ফ্যাক্স, প্রিন্টার, ডিজিটাল ক্যামেরা, ব্লুটুথ ডিভাইস (কিবোর্ড, পয়েন্টিং ডিভাইস, অডিও হেডসেট) নোটবুক ও পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিসটেন্টসমূহ (PDA) যা কোনো ব্যক্তি শরীরের কাছাকাছি থাকে। প্যানের ব্যাপ্তি সাধারণত কয়েক মিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্কগুলো কম্পিউটার বাসসমূহ যেমন- ইউএসবি (USB) বা ফায়ারওয়্যার (Fire Wire) এর মাধ্যমে তার দ্বারা যুক্ত থাকতে পারে।

 

প্রশ্ন- ৭ঃ ডেটা ট্রান্সমিশন মোড সম্পর্কে বিস্তারিত লেখ।
উত্তর: ডেটা ট্রান্সমিশন মোড ( Data Transmission Mode)
কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে ডেটা কমিউনিকেশনস-এর সময় ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ডেটার প্রবাহকে ডেটা ট্রান্সমিশন মোড হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ডেটা স্থানান্তরের প্রবাহের উপর ভিত্তি করে অর্থাৎ দিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ডেটা ট্রান্সমিশন মোডকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-

  1. ইউনিকাস্ট (Unicast)
  2. ব্রডকাস্ট (Broadcast)
  3. মাল্টিকাস্ট (Multicast)
  1. ইউনিকাস্ট (Unicast) : যে ট্রান্সমিশনস -এর পদ্ধতিতে একজন প্রেরক ও একজন প্রাপকের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান হয়ে থাকে, তাকে ইউনিকাস্ট মােড বলা হয়। এ ট্রান্সমিশন মোডকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।যথা-

(i) সিমপ্লেক্স (Simplex)

(ii) হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex)

(iii) ফুল-ডুপ্লেক্স (Full- Duplex)

(i) সিমপ্লেক্স (Simplex) : ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ডেটার একমুখী প্রবাহকে সিমপ্লেক্স মোড বলা হয়। এ পদ্ধতিতে একটি কম্পিউটার সবসময় অন্য কম্পিউটারে ডেটা পাঠায়, অপরটি ডেটা গ্রহন করে। উদাহরণ- PABX সিস্টেম, রেডিও।

(ii) হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex): এ পদ্ধতিতে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে উভয় দিকে থেকে ডেটা প্রেরণ করা যায় তবে একই সময়ে তা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে কোন প্রান্ত একই সময় কেবল ডেটা গ্রহন প্রেরণ করতে পারে, কিন্তু গ্রহন এবং প্রেরণ একই সময়ে করতে পারে না। উদাহরণ- ওয়াকিটকি।

(iii)ফুল-ডুপ্লেক্স : (Full- Duplex): এ পদ্ধতিতে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে উভয় দিক থেকে একই সময়ে ডেটা প্রেরণ ও গ্রহণ করা যায়। এক্ষেত্রে কোনো প্রান্ত একই সময়ে ডেটা প্রেরণ করার সময় ইচ্ছে করলে গ্রহণও করতে পারে। উদাহরণ- টেলিফোন, মােবাইল।

  1. ব্রডকাস্ট (Broadcast): এ ট্রান্সমিশন ব্যবস্থায় নেটওয়ার্কভূক্ত কোনো একটি কম্পিউটার বা নোড হতে ডেটা ট্রান্সমিট হলে নেটওয়ার্কভুক্ত সকল নোডই তা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। উদাহরণ হিসেবে টেলিভিশন, রেডিও সম্প্রচারের কথা বলা যেতে পারে। টেলিভিশনে কোনো অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হলো তা সকল টেলিভিশন বা গ্রাহক যন্ত্র একই সাথে গ্রহণ করতে পারে।
  2. মাল্টিকাস্ট‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ (Multicast):  এটি এমন একটি ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতি যেখানে কোনো কম্পিউটার বা নোড হতে ডেটা টান্সমিট করলে গ্রুপভুক্ত কেবল অনুমোদিত নোড বা নোডসমূহই  তা গ্রহণ করতে পারবে। নেটওয়ার্কভূক্ত যেকোনো নোডকে এ ব্যবস্থায় ডেটা গ্রহণ হতে বিরত রাখা যায়। উদাহরণ হিসেবে টেলিকনফারেন্সিং এবং ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। টেলিকনফারেন্সিংয়ে অংশগ্রহণরত ব্যক্তিদের মধ্যে কেবল নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ছাড়া অন্যরা এতে অ্যাকসেস করার সুযোগ পায়।

প্রশ্ন- ৮ঃ  কো-এক্সিয়াল ক্যাবল কী? কো-এক্সিয়াল ক্যাবলের গঠন ও প্রকারভেদ বর্ণনা কর।
উত্তর : কো-এক্সিয়াল ক্যাবল (co-axial cacle) :  কো-এক্সিয়াল ক্যাবল (co-axial cacle) সাধারণত কোএক্স (coax) নামের পরিচিতি। কো-এক্সিয়াল ক্যাবলের দুটি সুপরিবাহী বা কন্ডাক্টর স্তর একটি অভিন্ন এক্সিস (Axis) শেয়ার করে থাকে। এজন্য এর নামকরণ করা হয়েছে কো-এক্সিয়াল ক্যাবল। কো-এক্স ক্যাবলের কেন্দ্র দিয়ে অতিক্রম করে একটি সলিড (Solid) কপার তার । এ তারকে ঘিরে জড়ানো থাকে প্রাস্টিক ফোমের ইনসুলেশন (Insulation)। এ ইনসুলেশন ফোমের চারপাশে জাল বা নেট আকৃতির তার দ্বারা ঘোরানো থাকে। তার উপরে প্লাস্টিকের আবরণ থাকে, যা তারকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে থাকে। লং ডিসটেন্স কো-এক্সিয়াল ক্যাবল দুই প্রকার। যথা-
১. থিননেট (Thinnet) এবং
২. থিকনেট (Thicknet).

 

প্রশ্ন- ৯ঃ টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল কী? টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের গঠন বর্ণনা কর।
উত্তর : টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (Twisted-Pair-Cable) : সিগন্যাল ট্রান্সমিট করার জন্য টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলে একাধিক জোড়া টুইস্টেড বা মোড়ানো কপার তার ব্যবহার করা হয়। পেঁচানো তার দুটিকে পৃথক রাখার জন্য এদের মাঝে অপরিহার্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কপার তার মোড়ানোর জন্য ক্রসটকের পরিমাণ কমে যায়। কারণ এ পদ্ধতিতে তার থেকে বিকিরিত (Radiated) সংকেত একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। এ ধরনের ক্যাবলে সাধারণত ৪ জোড়া তার ব্যবহৃত হয়। প্রতি জোড়া তারের মধ্যে দিয়ে একটি কমন রঙের তার থাকে যা সাদা রঙের হয় এবং বাকি তারগুলো হয় ভিন্ন রঙের। তারগুলো সংযোজনের সময় ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ নম্বরের ভিত্তিতে সংযোগ প্রদান করতে হয়। প্রতি জোড়ায় তার দুটির একটির গুরুত্ব হয় ০.৪ মি. মি. থেকে ০.৯ মি.মি.। টুইস্টেড পেয়ার বা ক্যাবল দুই প্রকার। যথা-
১। আবরণহীন টুইস্টেড পেয়ার বা ইউটিপি (UTP-Unshielded Twisted Pair)
২। আবরণযুক্ত টুইস্টেড পেয়ার বা এসটিপি (STP-Shielded Twisted Pair)

১. ইউটিপি (UTP) : ইউটিপি ক্যাবল মূলত একাধিক জোড়া টুউস্টেড পেয়ারের সমষ্টি যা আবার প্লাস্টিক আবরণে মােড়ানো থাকে। তারের মধ্য দিয়ে যখন সিগন্যাল অতিক্রম করতে থাকে তখন এর শক্তি বা মান ক্রমান্বয়ে লােপ পেতে থাকে। একে বলা হয় এটিনিউয়েসন (Attenuation) । বর্তমানে বাজারে যে সকল ইউটিপি ক্যাবল পাওয়া যাচ্ছে তা যথেষ্ট উন্নতমানের । বিকিরিত শব্দ (Radiated Noise) এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফেরেন্স (Electromagnetic Interference) দ্বারা ইউটিপি ক্যাবলে সিগন্যাল অপেক্ষাকৃত কম বাধাগ্রস্ত হয়ে। ইউটিপি’র উন্নয়ন ঘটেছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে।

২. এসটিপি (STP) : এসটিপি ক্যাবলের বাইরে জ্যাকেট বা কেসিং ( Casing) এবং তারের মধ্যে একটি শিল্ড (Shield)  বা শক্ত আবরণ থাকে। এ আবরণটি সাধারণত অ্যালুমিনিয়াম বা পলিস্টার দ্বারা তৈরী যা এসটিপি ক্যাবলকে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফেরেন্সের হাতে থেকে রক্ষা করে। তবে ইউটিপি ক্যাবলের চেয়ে এসটিপি ক্যাবল যে সিগন্যাল অ্যাটিনিউসনের দিকে থেকে অধিক নিরাপদ- সেরকম কোনো গ্যারান্টি নেই।

 

প্রশ্ন- ১০ঃ ফাইবার অপটিক ক্যাবল কী? ফাইবার অপটিক ক্যাবলের গঠন ও প্রকারভেদ বর্ণনা কর।
উত্তর : ফাইবার অপটিক বা অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল হলো এমন ধরনের একটি ক্যাবল যার মাধ্যমে অালোকরশ্মি পরিবাহী সূক্ষ্ম  ফিলামেন্টের তৈরী স্বচ্ছ তারের ভিতর দিয়ে পূর্ণ ‌‌ অভ্যন্তরীণ প্রতিসরণের মাধ্যমে অতি দ্রুত ডেটা প্রেরণ করা যায়। ফাইবার অপটিক ক্যাবলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যালের পরিবর্তে আলোক বা লাইট সিগন্যাল ট্রান্সিমিট করে। এ প্রযুক্তিতে একই সাথে বয়ে নেওয়া যায় অসংখ্য টেলিফোন কল, টেলিভিশন সংকেত আর বিপুল পরিমাণ তথ্য উপাত্ত।
ফাইবার অপটিক ক্যাবল এর গঠন (Structure of Fibre Optic Cable) :
অপটিক্যাল ফাইবারের ৩টি স্তর থাকে। এগুলো হলো-
১. প্লাস্টিক কোর (Plastic Core)
২. ক্লাডিং (Cladding)
৩. জ্যাকেট (Jacket)

১. প্লাস্টিক কোর (Plastic Core) : আলোক সিগন্যাল সঞ্চালনের প্রধান কাজটি করে ফাইবারের অভ্যন্তেরের গ্লাস বা প্লাস্টিক কোর (Plastic Core)। কোরের ব্যাস ৮ থেকে ১০০ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

২. ক্লাডিং (Cladding) : কোরের ঠিক বাহিরের স্তরটি হচ্ছে কাচের তৈরী যা কোর থেকে নির্গত আলোকরশ্মি প্রতিফলিত (Reflected) করে তা পুনরায় কোরে ফেরত পাঠায়। এ স্তরটি ক্ল্যাডিং(Cladding) নামেও পরিচিত।

৩. জ্যাকেট (Jacket) : প্রতিপি স্বতন্ত্র ফাইবার আবার প্লাস্টিক দিয়ে মােড়ানো থাকে। এ আবরণটি শক্ত বা হালকা যেকোনো রকমের হতে পারে। একে জ্যাকেট (Jacket) বলে।
ফাইবার অপটিক এর প্রকারভেদ (Classification of fibre Optic Cables)
ফাইবারের গাঠনিক উপাদানের প্রতিসরাঙ্কের উপর নির্ভর করে ফাইবার অপটিককে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১. স্টেপ-ইনডেক্স ফাইবার (Step-Index Fibre)
২. গ্রেডেড-ইনডেক্স ফাইবার (Graded-Index Fibre)
৩. মনোমোড ফাইবার (Monomode Fibre)

কোরের ব্যাস অনুযায়ী ফাইবার অপটিককে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১. মাল্টিমোড ফাইবার (Multimode Fibre)
২. সিঙ্গেলমোড ফাইবার(Singlemode Fibre)

 

প্রশ্ন- ১১ঃ নেটওয়ার্ক টপোলজি কী? উহা কত প্রকার ওকী কী? বিভিন্ন প্রকার টপোলজি সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
উত্তর : একটি নেটওয়ার্কের ফিজিক্যাল ডিভাইস বা কম্পোনেন্ট (Component) যেমন-ক্যাবল, পিসি, রাউটার ইত্যাদি যে ভাবে নেটওয়ার্কে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে তাকে বলা হয় টপোলজি। নেটওয়ার্ক টপোলজি মূলত নেটওয়ার্কের ফিজিক্যাল লে-আউট (Layout) বর্ণনা করে থাকে। কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এর জন্য মূলত ছয় ধরনের টপোলজি ব্যবহৃত হয়। এগুলো হচ্ছে-
১. বাস টপোলজি (Bus Topology)
২. রিং টপোলজি ( Ring Topology)
৩. স্টার টপোলজি (Star Topology)
৪. ট্রি টপোলটজি (Tree Topology)
৫. হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology)
৬. মেশ টপোলজি (Mesh Topology)

রিং টপোলজি ( Ring Topology) : যে টপোলজিতে একটি মূলত তারের সাথে সবকটি ওয়ার্কস্টেশন বা কম্পিউটার সংযুক্ত থাকে তাকে বাস টপোলজি বলা হয়। বাস টপোলজির প্রধান ক্যাবলটিকে বলা হয় ব্যাকবোন (backbone)সিগন্যাল যখন ব্যকবোনে চলাফেরা করে তখন শুধু প্রাপক কম্পিউটার সিগন্যাল গ্রহন করে, বাকিরা একে অগ্রাহ্য করে। এ টপোলজি ছোট আকারের নেটওয়ার্কে ব্যবহার খুব সহজ, সাশ্রয়ী ও এটি বিশ্বস্ত। এই সংগঠনে কোন কম্পিউটার নয় হয়ে গেলে সম্পূর্ণ সিস্টেম নষ্ট হয়ে হয়ে যায় না।
রিং টপোলজি ( Ring Topology) : রিং টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার তার পার্শ্ববতী কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত থাকে। এভাবে রিংয়ের সর্বশেষ কম্পিউটারটি প্রথমটির সাথে যুক্ত থাকে। এ ব্যবস্থায় কোনো কম্পিউটার ডেটা পাঠালে তা বৃত্তাকার পথে কম্পিউটারগুলোর মধ্যে ঘুরতে থাকে যতক্ষণ না নির্দিষ্ট কম্পিউটার ডেটা গ্রহণ করে। এ ব্যবস্থায় কোনো কেন্দ্রীয় কম্পিউটার থাকে না। এতে প্রতিটি কম্পিউটারের গুরুত্ব সমান।
স্টার টপোলজি (Star Topology) : যে টপোলজি একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটার বা হোস্ট কম্পিউটারের সাথে অন্যান্য কম্পিউটার সংযুক্ত করে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয় তাকে স্টার টপোলজি বলা হয়। এক্ষেত্রে  একটি কম্পিউটার কেন্দ্রীয় কম্পিউটারের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে। এ সংগঠনে কোনো একটি কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলে বাকি নেটওয়ার্কে তার প্রভাব পড়ে না। খুব সহজেই সমস্যায় আক্রান্ত কম্পিউটারটি সরিয়ে নেয়া যায়।
ট্রি টপোলজি (Tree Topology) : যে টপোলজিতে কম্পিউটারগুলো পরস্পরের সাথে গাছের শাখা প্রশাখার মতো বিন্যস্ত থাকে তাকে ট্রি টপোলজি বলা হয়। এ টপোলজিতে  এক বা একাধিক স্তরের কম্পিউটারগুলো হোস্ট কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে। অর্থাৎ প্রথম স্তরের কম্পিউটারগুলাে দ্বিতীয় স্তরের কম্পিউটারের হোস্ট হয়। একইভাবে দ্বিতীয় স্তরের কম্পিউটারগুলো তৃতীয় স্তরের কম্পিউটারগুলো হোস্ট হয়। অফিস ব্যবস্থাপনার কাজে এ নেটওয়ার্ক টপোলজি খুবই উপযোগী। শাখা-প্রশাখার সৃষ্টির মাধ্যমে ট্রি টপোলজির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা সহজ।
হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology) : বাস, স্টার, রিং, ইত্যাদি টপোলজির সমন্বয়ে গঠিত নেটওয়ার্ক টপোলজিকে বলা হয় হাইব্রিড টপোলজি। উদাহরণস্বরূপ ইন্টারনেটকে এ ধরনের টপোলজি হিসেবে অভিহিত করা হয়। কেননা ইন্টারনেট হলো বৃহৎ পরিসরের একটি নেটওয়ার্ক যেখানে সব ধরনের টপোলজির মিশ্রণ দেখা যায়। এ টপোলজিতে প্রয়োজনানুযায়ী নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সহজেই নির্ণয় সম্ভব হয়। কোনো এক অংশ নষ্ট হয়ে গেলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক নষ্ট না হয়ে অংশবিশেষ নষ্ট হয়ে যায়।
মেশ টপোলজি (Mesh Topology) যদি কোন নেটওয়ার্কে ডিভাইস বা পিসিসমূহের মধ্যে অতিরিক্ত সংযোগ থাকে তাহলে তাকে মেশ টপোলজি বলে। অধিকাংশ মেশ টপোলজি নেয়ওয়ার্ক সত্যিকারের মেশ নেটওয়ার্ক নয়। এরা আসলে হাইব্রিড মেশ নেটওয়ার্ক । এতে শুধু কয়েকটি অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় লিঙ্ক থাকে। এতে ডেটা কমিউকেশন অনেক বেশি নিশ্চয়তা থাকে এবং নেটওয়ার্কের সমস্যা খুব সহজে সমাধান করা যায়।

 
প্রশ্ন- ১২ঃ লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা LAN কী? LAN সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা কর।
উত্তর : একটি নিদিষ্ট ভবন বা ক্যাম্পাসে যদি একদল কম্পিউটার নেটওয়ার্কভূক্ত হয়, তাহলে সেটি ল্যান নামে পরিচিত হবে। ল্যানের অধীনে কোনো একটি ভবনের একই তলায় অবস্থিত সকল কম্পিউটার থাকতে পারে, অথবা কোনো একটি কোম্পানির একই ভবনের কাছাকাছি ফ্লোরের কম্পিউটারগুলো ল্যানভূক্ত হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে একটি নিদিষ্ট দূরত্বের মধ্যে কম্পিউটারগুলোকে থাকতে হবে। এ নেটওয়ার্ক স্থাপন ও রক্ষাণাবেক্ষণ পদ্ধতি সহজসাধ্য ও ব্যয়বহুর নয়।
 
প্রশ্ন- ১৩ঃ ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক বা WAN কী? WAN সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা কর।
উত্তর : ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN-Metropoliton Area Network)
ওয়ান (WAN) বা ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক হচ্ছে কতকগুলো কম্পিউটার বা ল্যানের নেটওয়ার্ক যারা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত। ইন্টারনেট হলো ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক। এ নেটওয়ার্কের, মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ই-মেইল আদান-প্রদান করা, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা, ফাইল ডাউনলোড, অনলাইন শপিং ইত্যাদি করা যায়।ওয়ানের আওতায় কম্পিউটারগুলো কেবল একটি শহরেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, অথবা এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়েও থাকতে পারে। তবে ওয়ানের পুরাে বিষয়টি নির্ভর করছে ফিজিক্যাল লাইন, ফাইবার অপটিক ক্যাবল, স্যাটেলাইট এবং মাইক্রোওয়েভ ট্রান্সমিশনের উপর।

Comments ( 2 )

Post a Reply