কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান) : পাঠ – ১০

কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান) : পাঠ – ১০

প্রশ্নঃ নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
একটি বিদ্যালয়ের কম্পিউটার গুলোকে LAN -এর একটি বিশেষ টপোলজিতে নেটওয়ার্কভুক্ত করা হয়েছে। এদের একটি বিশেষ কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কিছু ফাইল হারিয়ে গেছে এবং অবশিষ্ট ফাইল ও ফোল্ডার এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। অধিকন্তু বিভিন্ন সফটওয়্যারও অকার্যকর হয়ে পড়ে। অন্য কম্পিউটারগুলো ভাইরাসে আক্রান্ত না হলেও নেটওয়ার্কটি সম্পন্নভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেটওয়ার্কটিকে এমনভাবে পুনর্বিন্যাস করার সিন্ধান্ত নিয়েছে যাতে ঐ সমস্যার পুনরাবৃত্তি হবে না।

ক. নেটওয়ার্ক টপোলজি কাকে বলে?
খ. LAN ও  Internet- এর মধ্যে একটি পার্থক্য বুঝিয়ে লেখ।
গ. কম্পিউটারটি কী কী উপায়ে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে? বর্ণনা কর।
ঘ. বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেটওয়ার্ক টপোলজি পরিবর্তন করে কোন টপোলজির নেটওয়ার্ক স্থাপনের সিন্ধান্ত নিবে? যুক্তি দিয়ে  দাও।

উত্তর
ক) নেটওয়ার্ক কম্পিউটারসমূহের অবস্থাগত এবং সুযোগ বিন্যাসের কাঠামোকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে।

খ) কাছাকাছি অবস্থিত একাধিক কম্পিউটারর বা যন্ত্রপাতির মাঝে যে নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয় তাকে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা LAN বলে। যেমন : একটি বিদ্যালয়ের সকল কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক হলো LAN । অপরদিকে, ইন্টারনেট হলো International Network। এটি হলো বিশ্বজুড়ে নেটওয়ার্কসমূহের নেটওয়ার্ক।

গ) কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের বিপত্তি সৃষ্টিকারী প্রোগ্রাম। দুষ্টু বুদ্ধির কিছু মানুষ ব্যবসায়িক স্বার্থে এ ধরনের প্রোগ্রাম তৈরী করে কোনো ডিস্ক বা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। ভাইরাস কম্পিউটারের স্বাভাবিক প্রোগ্রামের কাজ বিঘ্নিত করে। আবার অনেক ফাইল ডিস্ক থেকে মুছে দেয়, নষ্ট করে, কম্পিউটার চালু হওয়ার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে। একই ফোল্ডার বিভিন্ন জায়গায় কপি করে জায়গা দখল করে, ডিস্কের নাম পরিবর্তন করে এমনকি ডিস্ক পর্যন্ত নষ্ট করে ফেলতে পারে।

উদ্দিপকের কম্পিউটারটি বিভিন্ন উপায়ে ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে। যেমন-

  1. উদ্দিপকের কম্পিউটারটির ব্যবহারকারী যদি অন্য কোনো ভাইরাসযুক্ত কম্পিউটার থেকে পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ড  বা ফ্লপি ডিস্কের মাধ্যমে কোনো ফাইল অানয়ন করে তবে তা ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে।
  2. ব্যবহারকারী যদি ভাইরাসযুক্ত CD/ DVD থেকে কোনো ফাইল কপি করে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে তবে এই ভাইরাস আক্রান্ত হতে পার।

iii. ভাইরাসযুক্ত কোনো হার্ডডিস্ক এনে ডাটা আদান-প্রদান করলেও উক্ত ঘটনা ঘটতে পারে।

  1. ভাইরাসযুক্ত কোন সফটওয়্যার ইনস্টল করলেও ঐ কম্পিউটার আক্রান্ত হতে পারে।
  2. মডেমের মাধ্যমে মােবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করার কারণেও কম্পিউটারটি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।

ঘ) উদ্দিপকের উল্লেখিত বিদ্যালয়ের কম্পিউটারসমূহের মধ্যে স্টার নেটওয়ার্ক বিদ্যমান ছিল। ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত বিশেষ ঐ কম্পিউটারটি ছিল হোস্ট কম্পিউটার এ ধরনের নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলো হোস্ট কম্পিউটার ব্যতিরেখে পরস্পর ডাটা আদান-প্রদান করতে পারে না। ফলে হোস্ট কম্পিউটারে সমস্যা দেখা দিলে পুরো নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে পড়ে। ঐ বিদ্যালয়ের নেটওয়ার্ক টপোলজি পরিবর্তন করে বাস নেটওয়ার্ক স্থাপন করে (হোস্ট কম্পিউটারটি সরিয়ে রেখে) নেটওয়ার্কটি সচল করা যায়। কারণ এই ধরনের টপোলজিতে একটি মূলত তারের সাথে সবকয়টি সংযুক্ত থাকে। অর্থাৎ প্রতিটি কম্পিউটার মূল বাসের সাথে সংযুক্ত থাকে।

No Comments

Post a Reply