কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান) : পাঠ – ০৯

কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান) : পাঠ – ০৯

প্রশ্নঃ নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
জুলি ও তুলি দুই বান্ধবী পাশাপাশি বাড়িতে থাকে। তারা উভয়েই বাসার কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করে । জুলি তার কম্পিউটারে কোনো নোট তৈরী করলে তা নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার মাধ্যমে  তুলির কম্পিউটারে প্রেরক করে। অনুরূপভাবে তুলিও কোনো নোট তৈরি করলে তা জুলির কম্পিউটারে প্রেরক করে। এভাবে তারা প্রায়ই নোটপত্র আদান-প্রদান করে।

ক) ইন্টারনেটের প্রকৃত যাত্রা আরম্ভ হয় কত সালে?
খ) ইন্টারনেটের একটি কাজ বর্ণনা কর।
গ) কম্পিউটারে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার মাধ্যমে কিভাবে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।
ঘ) কম্পিউটারে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা আলোচনা কর।

উত্তর
ক) ইন্টারনেটের প্রকৃত যাত্রা আরম্ভ হয় ১৯৬৯ সালে।

খ) ইন্টারনেটের একটি গুরুত্বপুর্ণ কাজ  হচ্ছে শিক্ষার প্রসার করা। শিক্ষা ক্ষেত্রে ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনলাইনে যেকোনো লাইব্রেরি থেকে যেকোনো পুস্তক অধ্যায়ন করা যায়। বর্তমান ইন্টারনেট ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত না থাকলেও যেকোনো স্থান থেকে ক্লাসে অংশগ্রহন করতে পারে।

গ) কম্পিউটারে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ডিভাইস বা কম্পিউটারের সাথে অন্য একটি ডিভাইস বা কম্পিউটার তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। এজন্য অবশ্যই প্রতিটি ডিভাইস বা কম্পিউটারের একটি স্বতন্ত্র এ্যাড্রেস বা ঠিকানা থাকতে হবে। যখন কোনো একটি কম্পিউটারকে এ্যাড্রেস তথ্য পাঠানো হয় তখন নেটওয়ার্ক ঐ টার্গেটকৃত প্রাপক কম্পিউটারে তথ্য পৌঁছে দেয়। আবার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো একটি কম্পিউটার যদি একাধিক এ্যাপ্লিকেশন রান করে তার জন্য প্রতিটি এ্যাপ্লিকেশনের একটি স্বতন্ত্র এ্যাড্রেস বা ঠিকানা কম্পিউটারে থাকতে হবে। এভাবে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার মাধ্যমে কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে, আবার এ্যাপ্লিকেশন গ্রহন করে তা কম্পিউটারে রান করা যাবে।

ঘ) কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার ফলে গোটা বিশ্ব আজ মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার সুবিধাসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো-

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা প্রচলনের পূর্বে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, ছোট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, বাড়িতে এককভাবে কম্পিউটার ব্যবহৃত হতো। কিন্তু আস্তে আস্তে মানুষের কর্মব্যস্ততা বাড়তে থাকে এবং কম্পিউটার এককভাবে সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। এজন্য নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়ে এবং এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একই কাজ সম্ভব হয় না। এতে অনেক কাজ কম সময়ে সহজে সম্পন্ন করা যায়। তাছাড়া কোনো একটি কম্পিউটারে সব তথ্য সংগ্রহ করা না গেলে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই তথ্য অন্য কম্পিউটারে পাঠিয়ে দেওয়া যায়। এতে তথ্য সংরক্ষণের ব্যাপক সুবিধা হয়। হার্ডডিস্কে সংরক্ষিত যেকোনো তথ্য প্রয়োজনে অন্য কম্পিউটারে পাঠিয়ে দেওয়া যায়। একটি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় প্রতিটি কম্পিউটারের জন্য আলাদা আলাদা  প্রিন্টার ব্যবহার না করে শুধুমাত্র একটি প্রিন্টার দিয়ে যাবতীয় সকল তথ্যই প্রিন্ট আউট করা যায়। অর্থাৎ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা সময় ও খরচ বাঁচাতেও সাহায্য করে। পৃথিবীর যেকোনাে দেশের যেকোনো প্রান্তের সাথে সহজে যোগযোগের ক্ষেত্র স্থাপন করেছে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। তাই আজ ঘরে বসেও নানা দেশের খবরাখবর পাওয়া যায়। আর এ সব কিছুর মূলই আছে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা।

Comment ( 1 )

Post a Reply