কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান) : পাঠ – ০৭

কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান) : পাঠ – ০৭

প্রশ্নঃ- নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

বাংলাদেশের একটি টেলিযোগাযোগ কোম্পানি পার্বত্য চট্রগ্রামের এক প্রত্যন্ত এলাকায় একটি শাখা অফিস স্থাপন করে। তারা মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে তাদের তথ্য আদান-প্রদান করতে থাকেন। এক্ষেত্রে তারা স্যাটেলাইটের সাহায্যে ডেটা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

ক. ডেটা কমিউনিকেশন মোড কী?
খ. মাইক্রোওয়েভ এন্টিনা বড় ভবনে বসানো হয়ে কেন।
গ. শাখা অফিসের ডেটা আদান-প্রদানের প্রদ্ধতি বর্ণনা কর।
ঘ. ডেটা পরিবহনের জন্য তাদের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তরঃ
ক. ডেটা কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে ডেটা প্রবাহের দিককে ডেটা ট্রান্সমিশন মোড বলে।

খ. মাইক্রোওয়েভ হলো হাই- ফ্রিকুয়েন্সি রেডিও ওয়েভ। উন্নত বিশ্বে দূর পাল্লায় ডেটা ট্রান্সমিশনে মাইক্রোওয়েভ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। মাইক্রোওয়েভ বড় কোনো ভবনে বসানোর কারণ সিগ্যনাল যাতে বেশি দূর অতিক্রম করতে পারে এবং পথিমাধ্য কোনো বস্তু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে।

গ. শাখা অফিসে মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে ডেটা পরিবাহিত হয় ।

microwave

কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবস্থার মাধ্যমে মাইক্রোওয়েভর সাহায্যে প্রেরক বা গ্রাহক কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব । মাইক্রোওয়েভ সংযোগ ব্যবস্থায় ডেটা, ছবি, শব্দ স্থানান্তর করা যায়। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন দেশে মাইক্রোওয়েভ সংযোগের মাধ্যমে ডেটা স্থানান্তরের জন্য ব্যাপকভাবে কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঘ. মাইক্রোওয়েভ প্রদ্ধতিতে যোগাযোগের দুটি ধরন হলো-

(i) টেরিস্ট্রিয়াল পদ্ধতি এবং (i) স্যাটেলাইট পদ্ধতি

টেরিস্টিয়াল মাইক্রোওয়েভ  প্রযুক্তিতে ভূ-পৃষ্ঠেই ট্রান্সমিটার বসানো হয়। এতে মেগাহার্জ ফ্রিকুয়েন্সি সীমার নিচের দিকে ফ্রিকুয়েন্সি ব্যবহার করা হয়। ট্রান্সমিটার রিসিভার দৃষ্টি রেখায় যোগাযোগ করা থাকে। সিগন্যাল কোনো ক্রমিই মধ্যবর্তী কোনাে বাধা (যেমন- উচ্চ ভবন, পাহাড়-পবর্ত ইত্যাদি) অতিক্রম করতে পারে না। এমনকি বক্রপথেও যেতে পারে না। স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তিতে যোগাযোগ উপগ্রহের সহায়তা নিতে হয়। এতে পৃথিবী থেকে 36,000 কিলোমিটার উপরে জিওসিনক্রোনাস কক্ষে যোগাযোগ স্যাটেলাইট পৃথিবীর সময়ে গতিতে ঘুরতে থাকে। এই স্যাটেলাইটের জন্য ভূপৃষ্ঠে যে রিসিভিং অ্যান্টিনা ব্যবহার করা হয় তা হচ্ছে প্যারাবলিক (Parabolic)। প্রেরক যন্ত্র সেকেন্ডে প্রায় 600 কোটি বা তার কাছাকাছি বার কম্পনবিশিষ্ট মাইক্রোওয়েভ সংকেত উপগ্রহে পাঠায়। উপগ্রহে পৌঁছনোর পর এই সংকেত অতন্ত্য ক্ষিণ হয়ে পড়ে। উপগ্রহে অনেকগুলো ট্রান্সপোন্ডার থাকে। এই ট্রান্সপোন্ডার ক্ষীণ সংকেতকে রিলে করে 400 কোটি বার কোম্পনবিশিষ্ট সংকেতে পরিণত করে পৃথিবীর গ্রাহক যন্ত্রে ফেরত পাঠায়। সাধারণ ক্যাবলের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভম হয় না যেখানে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিশন ঐ সকল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে যেসব দেশের মধ্যে সমুদ্র বা বিশালাকার পাহাড় অবস্থিত সেসব স্থানে নেটওয়ার্কভুক্ত করতে স্যাটেলাইটের কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং তাদের এই সিদ্ধান্ত সঠিক।

No Comments

Post a Reply