Blog

কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান) : পাঠ – ০৩

star_bus_topology
এইচ.এস.সি.

কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান) : পাঠ – ০৩

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

bus-topology-diagram-29007878

ক) নেটওয়ার্ক টপোলজি কী?

খ) বাস  টপোলজি ব্যবহারের সুুবিধা কী, ব্যাখ্যা কর।

গ) নেটওয়ার্কে কীভাবে ডেটা অবদান-প্রদান হয়ে থাকে? বর্ণনা কর।

ঘ) কম্পিউটার নেটওয়ার্কের প্রয়োজন আছে কি? বিস্তারিতভাবে তোমার মতামত তুলে ধর।

উত্তরঃ

(ক) একটি নেটওয়ার্কের ফিজিক্যাল ডিভাইস বা কম্পোনেট যেমন – ক্যাবল, পিসি, রাউটার ইত্যাদি যেভাবে নেটওয়ার্কে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে তাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে।

(খ) বাস টপোলজিতে মূলত একটি মূল তারের সাথে সবকটি ওয়ার্ক স্টেশন বা কম্পিউটার যুক্ত থাকে। এটি আকারে ছোট বলে ব্যবহার সহজ এবং কাজ করার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত। এতে সবচেয়ে কম ক্যাবলে ব্যবহৃত হয় বলে এটি সাশ্রয়ী। ব্যাকবোন সম্প্রসারন করার জন্য রিপিটার ব্যবহার করা হয় । এই সংগঠনে কোন কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলে সম্পূর্ণ সিস্টেম নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। বাস টপোলজিতে কোনো কম্পিউটার বা যন্ত্রপাতির সংযুক্ত বা সরিয়ে নেয়া হলেও পুরো নেটওয়ার্ক কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।

(গ) কম্পিউটার নেটওয়ার্ক মূলত সংঘবদ্ধ আন্তঃসংযুক্ত ডিভাইস যারা খুব সহজে নিজেদের মধ্যে তথ্য উপাত্ত ও রিসোর্স শেয়ার করতে পারে । মূলত তথ্যের বিনিময়, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার রিসোর্স শেয়ারিং করার জন্য নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়।

নেটওয়ার্কে ডেটা বিনিময়ের জন্য প্রতিটি ডিভাইস বা কম্পিউটারের একটি স্বতন্ত্র নেটওয়ার্ক ঠিকানা থাকতে হয়। এর ফলে নেটওয়ার্ক টার্গেটকৃত প্রাপক কম্পিউটারের ডেটা পৌছে দিতে সক্ষম হয়। একইভাবে একই কম্পিউটারে যদি একাধিক অ্যাপ্লিকেশন রান করে, তাহলে ঐ কম্পিউটার প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশনেরও একটি স্বতন্ত্র ঠিকানা থাকতে হয়। অ্যাপ্লিকেশনসমূহের আলাদা আলাদা ঠিকানা থাকার জন্য আইএসও বা ওএসআই মডেলের ট্রান্সপোর্ট লেয়ার বা স্তর একই সময়ে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট করতে সক্ষম, অর্থাৎ ট্রান্সপোট লেয়ারের মধ্যে দিয়ে একই সময়ে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন প্র্রোগ্রাম ডেটা লেনদেন করতে পারে। কোনো অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামের ঠিকানা স্যাপ বা সার্ভিস অ্যাকসেস পয়েন্ট (SAP-Service Access Point) নামে পরিচিত। স্যাপের জন্য প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশন পৃথকভাবে ট্রান্সপোর্ট লেয়ারের সার্ভিস ব্যবহারের অনুমোদন পায়।

(ঘ) ব্যক্তিগতভাবে বা এককভাবে ব্যবহার জন্য যে কম্পিউটার তাকে বলে পিসি বা পার্সোনাল কম্পিউটার ।

বাড়ি, ছোট অফিস-আদালত, ছোটখাটো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজে শুরুতে একটি কম্পিউটার দিয়ে কাজ শুরু হয়। অতঃপর ক্রমান্বয়ে কাজের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে একাধিক কম্পিউটারের প্রয়োজন  হয়ে পড়ে এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। তখন ব্যবহারকারীরা কাজকে ভাগ করে নেন। শুধু তাই নয় একটি যন্ত্রই তখন ব্যবহারকারীরা ভাগ করে নেয়। যেমন- একটি প্রিন্টারকে একজন ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারেন । আবার একাধিক ব্যবহারকারীও ব্যবহার করতে পারে। কেননা আমরা কম্পিউটার যতই ব্যবহার করি না কেন প্রিন্টার ব্যবহার করি তার চেয়ে অনেক কম। অন্যদিকে প্রতিটি কম্পিউটার আলাদাভাবে প্রিন্টার বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কিনতে হলেও ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। তাই অর্থনৈতিক খরচ কমানোর জন্য নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

দৈনন্দিন জীবন কল্পনা করা যায় না। পৃথিবীর যেকোনো দেশের সাথে যেকোন প্রয়োজনে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করা যায় নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। সুতরাং কম্পিউটার নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা বহুমুখী।

Leave your thought here