ওয়েব ডিজাইন পরিচিতি এবং HTML (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান) : পাঠ – ২

ওয়েব ডিজাইন পরিচিতি এবং HTML (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান) : পাঠ – ২

প্রশ্ন : নিচের উদ্দিপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কোম্পানি X ঠিক করল যে তাদের একটি ওয়েবসাইট এর প্রয়োজন যেখানে তারা শুধু নিজেদের পরিচিতি প্রকাশ করবে। এ উদ্দেশ্য তারা একজন ওয়েব ডেভেলপার নিয়োগ করে। ওয়েব ডেভেলপার তাদের জানায় যে, কোম্পানির ওয়েবসাইট প্রকাশ করতে হলে ওয়েবসাইটটি তৈরির পাশাপাশি ডোমেইন ও হোস্টিং এর প্রয়োজন হবে। কোম্পানি এতে সম্মতি প্রদান করে। তবে তার ওয়েব ডেভেলপারকে এও খেয়াল রাখতে বলে যে এমনভাব এগুলো করতে হবে যাতে কোনো অতিরিক্ত খরচ না হয় আবার যে উদ্দেশ্যে ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে সেটিও পূরণ হয়।

ক) ডোমেইন নেম কী?
খ) ডোমেইন নেম কেন কিনতে হবে?
গ) ডোমেইন হোস্টিং এর মধ্যে পার্থক্য কী?
ঘ) উদ্দিপকে বর্ণিত অবস্থার ক্ষেত্রে কী রকমের হোস্টিং ব্যবহার করা (নিজস্ব নাকি বাইরের কোম্পানি থেকে কেনা) উচিত বলে তুমি মনে কর? নিজের উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

উত্তর-

ক. ইন্টারনেটে নির্দিষ্ট কোনো রিসোর্স বা সংস্থান চিহিৃত করার জন্য যে বিশেষ নাম ব্যবহার করা হয় তাকে ডোমেইন নেম বলা হয়।

খ) ডোমেইন নেম প্রকৃত পক্ষে একটি ষোল ডিজিটের স্বতন্ত্র সংখ্যা। এত বড় সংখ্যা মনে রাখা কঠিন বলে একে একটি নির্দিষ্ট নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি ডোমেইন নেম অন্য নামগুলো থেকে ভিন্ন। একটি ওয়েবসাইট খুলতে হলে এর নিজস্ব নাম হিসেবে ডোমেইন নেম ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি ডোমেইন নেম ডি এন এস এর মাধ্যমে রেজিষ্টার্ড বা নিবন্ধিত হয় যা একটি ইউনিক আইপি অ্যাড্রেস সম্বলিত ডোমেইন নেম চিহৃিত করে। অর্থাৎ ওয়েবসাইটে  স্বতন্ত্র ঠিকানা তৈরির জন্য ডোমেইন নেম কিনতে হয়।

গ) ডোমেইন নেম এবং হোস্টিং এর মধ্যে পার্থক্য হলো :

i) প্রতিটি সাইটের একটি স্বতন্ত্র নাম থাকতে হয় যেটিকে ডোমেইন নেম বলে। অন্যদিকে ইন্টারনেটে ওয়েবের ফাইলগুলো কোনো সার্ভারে রাখাকে ওয়েব হোস্টিং বলে।

ii) অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা বাইরের নামকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে ব্যবহারকারীর জন্য ডোমেইন নেম নিবন্ধনের ব্যবস্থা করে দেয়। পক্ষান্তরে ওয়েব হোস্টিংয়ের জন্য বিভিন্ন ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি তাদের ক্লায়েন্টদেরকে স্পেস ভাড়া দেয়।

iii) কারো কাছে ইন্টারন্যাশন্যাল ক্রেডিট কার্ড কিংবা  পেপ্যাল এর একাউন্ট থাকলে সেক্ষেত্র্রে তিনি নিজেই  ডোমেইন নেম কিনতে পারেন। অপরদিকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার সাইটের কনটেন্ট এর উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনানুয়ায়ী বিভিন্ন  ডেস্ক স্পেসের হোস্টিং সেবা নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে  মাসিক ট্রাফিক ভলিউম, সংযোগগতি, ২৪ ঘন্টার সেবা, প্রতিদিন ডেটা ব্যাকআপ ব্যান্ডইউডথ  বা কনটেন্ট বিধি নিষেধ, ডেটাবেজ, অ্যাকসেস ইত্যাদি বিষয়গুলো যাচাই করে নেওয়া হয়।

  1. iv) www.webskrill.com.bd  , www.webskrill.com ইত্যাদিসহ কিছু সাইট হতে ডোমেইন নেম নিবন্ধন করা যায়। অপরদিকে www.webskrill.com ওয়েব হোস্ট কোম্পানির কাছে থেকে প্রাপ্ত ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড টাইপ করে login বাটনে ক্লিক করে কন্ট্রোল প্যানেলে প্রবেশ করা যায়।

ঘ) একটি ওয়েব সাইট চালানোর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো হোস্টিং ক্রয় করা অর্থাৎ ওয়েবসাইটটি ইন্টারনেটের কোনো কম্পিউটারে রাখার জন্য জায়গা ও ব্যাইউথ ক্রয় । তবে হোস্টিং এর জন্য কী রকম জায়গা লাগবে এবং কী রকম ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ লাগবে তার উপর নির্ভর করে দু’রকমভাবে হোস্টিং কর সম্ভব । যদি ওয়েবসাইটটি অনেক বড় হয় আর এত প্রতিদিন কোটি কোটি দর্শনাথী আসার সম্ভবনা থাকে সেক্ষেত্রে জায়গা ও ব্যান্ডউইথ বাইরে  থেকে না কিনে নিজের কোনো কম্পিউটারই ওয়েব সার্ভার এর মাধ্যমে হোস্টিং কর ভালো। এক্ষেত্রে ইন্টারনেট কম্পিউটারটি লভ্য করার জন্য আসল আইপি ও ইন্টারনেটের সংযোগ কিনতে হবে। ডোমেইন ও হোস্টিং কোম্পানিগুলো থেকেই আসল আইপি কেনা যায়। যদি ওয়েবসাইটটি ছোট হয় যেমন ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট বা ছোট কোম্পানির ওয়েবসাইট  তাহলে অন্য কোম্পানি হতে হোস্টিং ও ব্যান্ডউইথ কেনাই  লাভজনক হবে।
যেকোনো ওয়েবসাইট দু’রকমভাবে হোস্টিং করা সম্ভব। যদি ওয়েবসাইটটি অনেক বড় হয় আর এতে প্রতিদিন কোটি কোটি দর্শনার্থী আসার সম্ভবনা থাকে সেক্ষেত্রে জায়গা ও ব্যান্ডউইথ বাইরে থেকে না কিনে নিজের কোনো কম্পিউটারেই ওয়েব সার্ভার এর মাধ্যেমে হোস্টিং করা ভালো। এক্ষেত্রে ইন্টারনেটে কম্পিউটারটি লভ্য করার জন্য আসল আইপি ইন্টারেনটের সংযোগ কিনতে হবে। ডোমেইন ও হোস্টিং কোম্পানিগুলো থেকেই অাসল আইপি কেনা যায়।
যদি ওয়েবসাইটটি ছোট হয় যেমন ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট বা ছোট কোম্পানির ওয়েবসাইট তাহলে অন্য কোম্পানি হতে হোস্টিং ও ব্যান্ডউইথ কেনাই লাভজনক হবে।
যেহেতু এটি একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সুতরাং ওয়েবসাইটি বড় আকারের হবে। এই ওয়েবসাইট নিজস্ব কম্পিউটার হোস্টিং  করা উচিত বলে আমি করি।

No Comments

Post a Reply